জীববিজ্ঞান ১. কোষ ও এর গঠন কোষের সংজ্ঞা: জীবনের গাঠনিক ও কার্যিক একক, স্ব-নিয়ন্ত্রিত, স্ব-প্রজননশীল এবং প্রোটোপ্লাজম ধারণকারী অর্ধভেদ্য ঝিল্লি দ্বারা আবৃত। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু ও কাজ: মাইটোকন্ড্রিয়া (কোষের শক্তিঘর): ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (ETS), ও অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশনের স্থান। ভেতরের ঝিল্লি ভাঁজ হয়ে ক্রিস্টি তৈরি করে। এতে 70S রাইবোজোম ও বৃত্তাকার DNA থাকে। রাইবোজোম (প্রোটিন ফ্যাক্টরি): প্রোটিন সংশ্লেষণের স্থান; প্রোকারিওটে 70S, ইউকারিওটে 80S। লাইসোসোম: অন্তঃকোষীয় পরিপাক ও বহিরাগত বস্তুর ভাঙ্গনে (ফ্যাগোসাইটোসিস) জড়িত। পরিণত RBC, স্নায়ুকোষ, ও যকৃত কোষে অনুপস্থিত। গলজি বডি: কোষ বিভাজনের সময় কোষ প্লেট তৈরি করে; নন-প্রোটিন পদার্থ সংশ্লেষণ করে। প্লাস্টিড: অ্যামাইলোপ্লাস্ট (শ্বেতসার), অ্যালিউরোপ্লাস্ট (প্রোটিন), ইলায়োপ্লাস্ট (চর্বি) সঞ্চয় করে। কোষ প্রাচীর: ক্ষুদ্রতম একক মাইসেলি। মধ্যপর্দা প্রধানত পেকটিন এসিড দিয়ে গঠিত। প্রধান উপাদান সেলুলোজ ($\beta$-D গ্লুকোজ পলিমার)। কোষের প্রকারভেদ: প্রোকারিওটিক: সুগঠিত নিউক্লিয়াসের অভাব (DNA নিউক্লিওয়েডে সংগঠিত), অ্যামাইটোসিস পদ্ধতিতে প্রজনন, 70S রাইবোজোম (যেমন: ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া)। ইউকারিওটিক: সুগঠিত নিউক্লিয়াস, মাইটোসিস/মায়োসিস পদ্ধতিতে প্রজনন, 80S রাইবোজোম (যেমন: শৈবাল, ছত্রাক, উদ্ভিদ, প্রাণী)। DNA/RNA: DNA বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও মাস্টার অণু। নিউক্লিওটাইড হলো নিউক্লিক অ্যাসিডের গাঠনিক একক। DNA বেস: A, T, G, C। RNA বেস: A, U, G, C (থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল)। DNA ডাবল হেলিক্স: $20 \text{ Å}$ ব্যাস, প্রতি প্যাঁচে $34 \text{ Å}$। ২. কোষ বিভাজন মাইটোসিস (সমীকরণিক/হোমোটিপিক): দেহকোষে ঘটে, একই ক্রোমোজোম সংখ্যা (2n) সহ 2টি অপত্য কোষ উৎপন্ন করে। ইন্টারফেজ: প্রস্তুতির পর্যায় (কোষ চক্রের 90-95%)। S দশায় DNA অনুলিপন (দ্বিগুণ) হয়। প্রোফেজ: ক্রোমোজোম ঘনীভূত হয়, নিউক্লিওলাস/নিউক্লিয়ার মেমব্রেন অদৃশ্য হয়ে যায়। অ্যানাফেজ: অপত্য ক্রোমোজোম মেরুর দিকে চলে যায়। সেন্ট্রোমিয়ার বিভাজন ঘটে। সাইটোকাইনেসিস: সাইটোপ্লাজমের বিভাজন (উদ্ভিদে কোষ প্লেট তৈরি)। মায়োসিস (হ্রাসমূলক/হেটারোটিপিক): জননকোষে ঘটে, 4টি হ্যাপলয়েড (n) গ্যামেট উৎপন্ন করে। প্রোফেজ I (দীর্ঘতম): জাইগোটিন (সিনেপসিস/বাইভ্যালেন্ট গঠন)। প্যাকাইটিন (টেট্রাড দৃশ্যমান, ক্রসিং ওভার ঘটে, কায়াজমা দেখা যায়)। অ্যানাফেজ I: সমসংস্থ ক্রোমোজোম পৃথক হয় (ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়)। কোষ মৃত্যু: নেক্রোসিস (বিষক্রিয়া/পুষ্টির অভাবে) বনাম অ্যাপোপটোসিস (জেনেটিকভাবে নিয়ন্ত্রিত/প্রোগ্রাম করা কোষ মৃত্যু)। ৩. অণুজীব ভাইরাস: অকোষীয়, বাধ্যতামূলক পরজীবী। শুধুমাত্র DNA *বা* RNA ধারণ করে। আকৃতি: TMV (দণ্ডাকার), পোলিও/ডেঙ্গু/HIV (গোলাকার), T-ফায (ব্যাঙাচি আকৃতির)। উল্লেখযোগ্য ভাইরাস/রোগ: HIV/ডেঙ্গু (RNA ভাইরাস)। ডেঙ্গুর বাহক: *Aedes aegypti*। ব্যাকটেরিয়া: প্রোকারিওটিক, কোষ প্রাচীর পেপটিডোগ্লাইকান দিয়ে গঠিত। ফ্ল্যাজেলার প্রকারভেদ: অ্যাট্রিকাস (ফ্ল্যাজেলা নেই), মনোট্রিকাস (একটি ফ্ল্যাজেলা), পেরিট্রিকাস (সারা দেহে ফ্ল্যাজেলা)। চিকিৎসাগত রোগ সৃষ্টিকারী: কলেরা (*Vibrio cholerae*), যক্ষ্মা (*Mycobacterium tuberculosis*), ধনুষ্টংকার (*Clostridium tetani*)। কৃষিগত রোগ সৃষ্টিকারী: ধানের ব্লাইট (*Xanthomonas oryzae*), গমের টুন্ডু রোগ (*Agrobacterium tritici*)। ব্যবহার: নাইট্রোজেন সংবন্ধন (রাইজোবিয়াম-সহজীবী, অ্যাজোটোব্যাক্টার/সিউডোমোনাস-অসহজীবী)। ভিটামিন সংশ্লেষণ (*E.coli*: B, K, B12)। পাট পচানো (*Clostridium* sp.)। ৪. নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ নগ্নবীজী (Gymnosperms): জাইলেমে ভেসেল থাকে না (ব্যতিক্রম *Gnetum*)। শস্য হ্যাপলয়েড (n)। দ্বিনিষেক ঘটে না। *Cycas* এর শুক্রাণু বৃহত্তম। আবৃতবীজী (Angiosperms): ডিম্বাশয় থাকে, ফলে পরিণত হয়। শস্য ট্রিপলয়েড (3n)। দ্বিনিষেক ঘটে। জাইলেমে ভেসেল, ফ্লোয়েমে সঙ্গীকোষ থাকে। ফুলের প্রতীক: $\circleplus$ (অ্যাক্টিনোমরফিক/অরীয় প্রতিসম), $\%$/$\dagger$ (জাইগোমরফিক/দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম), $\text{\textcurrency}$ (উভলিঙ্গ), $\text{\textcurrency}\text{^}\text{}$ (পুরুষ ফুল)। গুরুত্বপূর্ণ গোত্রের বৈশিষ্ট্য: পোয়াসি (ঘাস/ধান গোত্র): ফল ক্যারিওপসিস। লোডিকিউল থাকে। মালভেসি (জবা গোত্র): পরাগধানী বৃক্কাকার। অক্ষীয় অমরাবিন্যাস। ৫. টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র ভাজক টিস্যু: কোষ তরুণ, পাতলা প্রাচীরযুক্ত, সমব্যাসীয় এবং বিভাজনে সক্ষম। অবস্থান অনুসারে: শীর্ষস্থ, নিবেশিত, পার্শ্বীয় (ক্যাম্বিয়াম/কর্ক ক্যাম্বিয়াম)। স্থায়ী টিস্যু: কোষ পরিণত, অবিভাজনক্ষম। জটিল টিস্যু (ভাস্কুলার বান্ডেল): জাইলেম (ট্রাকিড, ভেসেল, জাইলেম প্যারেনকাইমা, জাইলেম ফাইবার)। ফ্লোয়েম (সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা, ফ্লোয়েম ফাইবার/বাস্ট ফাইবার)। ভাস্কুলার বান্ডেলের প্রকারভেদ: অরীয়: জাইলেম/ফ্লোয়েম ভিন্ন ব্যাসার্ধে পৃথকভাবে সজ্জিত (যেমন: মূল)। যৌগিক: জাইলেম/ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে (যেমন: কাণ্ড)। মুক্ত: ক্যাম্বিয়াম উপস্থিত (দ্বিবীজপত্রী কাণ্ড: সেকেন্ডারি বৃদ্ধি)। বদ্ধ: ক্যাম্বিয়াম অনুপস্থিত (একবীজপত্রী কাণ্ড)। সেকেন্ডারি বৃদ্ধি: পরিধি বৃদ্ধি করে। বার্ষিক বলয় গঠিত হয়। কাষ্ঠল কাণ্ডে গ্যাস বিনিময়ের জন্য লেন্টিসেল থাকে। ৬. উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব সালোকসংশ্লেষণ: নীল-বেগুনি ও কমলা-লাল আলোর দ্বারা চালিত। C3 চক্র (কেলভিন চক্র): প্রাথমিক গ্রাহক RuBP, প্রথম স্থায়ী উৎপাদ 3-PGA। C4 চক্র (হ্যাচ-স্ল্যাক): প্রাথমিক গ্রাহক PEP, প্রথম স্থায়ী উৎপাদ OAA, মেসোফিল ও বান্ডেল শিথ কোষে ঘটে (ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি)। শ্বসন: গ্লাইকোলাইসিস সাইটোপ্লাজমে ঘটে, সবাত/অবাত শ্বসনের সাধারণ পথ। ক্রেবস চক্র ও ETS মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে। সবাত শ্বসনে প্রতি গ্লুকোজ থেকে 38 ATP উৎপন্ন হয়। প্রস্বেদন: বাষ্পাকারে পানি নির্গমন, বেশিরভাগ স্টোমাটা (90-95%) দিয়ে। উচ্চ pH ($\approx$ 7) ও $K^+$ আয়নের মাধ্যমে স্টোমাটা খোলা উৎসাহিত হয়, নিম্ন pH ($\approx$ 5) দ্বারা বন্ধ হয়। পানি সম্পর্ক: অভিস্রবণ (Osmosis): অর্ধভেদ্য ঝিল্লি দিয়ে দ্রাবকের চলাচল। ইমবাইবিশন (Imbibition): কলোয়েডাল পদার্থ দ্বারা পানি শোষণ। D.P.D (Suction Pressure): $DPD = OP - TP$ (অভিস্রবণ চাপ - স্ফীতি চাপ)। হরমোন: অক্সিন (IAA) কাণ্ডের প্রসারণ, মূলের সূচনা ও অগ্রমুকুলতা বৃদ্ধি করে। ইথিলিন ফলের পরিপক্কতা ত্বরান্বিত করে। ৭. জৈবপ্রযুক্তি টিস্যু কালচার: জীবাণুমুক্ত অবস্থায় পুষ্টি মাধ্যমে টিস্যু/এক্সপ্লান্ট বৃদ্ধির কৌশল। টটিপোটেন্সি (একটি কোষের সম্পূর্ণ উদ্ভিদ হওয়ার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা)। মেরিস্টেম কালচার: রোগমুক্ত উদ্ভিদ উৎপাদন করে। অ্যান্থার কালচার: হ্যাপলয়েড উদ্ভিদ উৎপাদন করে। বেসাল মিডিয়ামের pH 5.5-5.8। জাইগোটিক নয়, সোম্যাটিক ভ্রূণ গঠিত হয়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং/রিকম্বিন্যান্ট DNA: রেস্ট্রিকশন এন্ডোনিউক্লিয়েজ ("জৈবিক কাঁচি") দিয়ে DNA কাটা। DNA লাইগেজ দিয়ে DNA খণ্ড যুক্ত করা। প্লাজমিড (বৃত্তাকার, এক্সট্রা-ক্রোমোজোমাল DNA, ভেক্টর) ব্যবহার করে ক্লোনিং। গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদ: ইনসুলিন (*E. coli* ব্যবহার করে)। Bt-বেগুন (*Bacillus thuringiensis* থেকে Cry1Ac জিন ব্যবহার করে) পোকা প্রতিরোধে। ইন্টারফেরন ক্যান্সার ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন। সুপারবাগ (*Pseudomonas*) হাইড্রোকার্বন (তেল ছিটকে যাওয়া) অবক্ষয় করে। ক্লোনিং: ডলি ভেড়া ছিল প্রথম ক্লোন করা স্তন্যপায়ী। ৮. প্রাণী বৈচিত্র্য ও শ্রেণীবিন্যাস শ্রেণীবিন্যাসের ভিত্তি: প্রতিসাম্য (অরীয়, দ্বিপার্শ্বীয়, গোলীয়), জার্ম স্তর (ডিপ্লোব্লাস্টিক/ট্রিপ্লোব্লাস্টিক), সিলোম (অসিলোমেট/সিউডোসিলোমেট/ইউসিলোমেট)। অসিলোমেট (সিলোম নেই): প্লাটিহেলমিন্থেস (ফিতাকৃমি, ফ্লুক)। সিউডোসিলোমেট (মিথ্যা সিলোম): নেমাটোডা/অ্যাসকেলমিন্থেস (গোলকৃমি, পিনওয়ার্ম, ফাইলেরিয়া কৃমি)। সিলোমেট (প্রকৃত সিলোম): মলাস্কা, অ্যানিলিডা, আর্থ্রোপোডা, একাইনোডার্মাটা, কর্ডাটা। ৯. প্রাণী পরিচিতি হাইড্রা (নিডারিয়া): ডিপ্লোব্লাস্টিক (এক্টোডার্ম, এন্ডোডার্ম, মাঝে মেসোগ্লিয়া)। নেমাটোসিস্ট (হিপনোটক্সিন ধারণকারী দংশনকারী ক্যাপসুল) থাকে। মাংসাশী/শিকারী। চলন: সমারসল্টিং/লুপিং, ইঞ্চিওয়ার্ম/গ্লাইডিং। ঘাসফড়িং (আর্থ্রোপোডা): তৃণভোজী। রক্ত হিমোলিম্ফ (বর্ণহীন, শ্বাসরঞ্জক নেই)। রেচন ম্যালপিজিয়ান নালিকা দ্বারা। শ্বসন শ্বাসনালী সিস্টেম দ্বারা। বিকাশ: অসম্পূর্ণ রূপান্তর (ডিম $\rightarrow$ নিম্ফ $\rightarrow$ পূর্ণাঙ্গ)। রুই মাছ (*Labeo rohita*): অস্থিময় মাছ (অস্টিইকথিস)। ৪ জোড়া ফুলকা দ্বারা শ্বসন। সংবহন: বদ্ধ প্রকৃতির। পটকা (বায়ু থলি) ভাসতে সাহায্য করে। ১০. মানব শারীরতত্ত্ব (পরিপাক, সংবহন, শ্বসন, চলন) পরিপাক: লালা: pH 6.2-7.4। লাইসোজাইম (ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস) ও টায়ালিন (শ্বেতসার পরিপাক) থাকে। পাকস্থলী: HCl (প্যারাইটাল কোষ) ও পেপসিনোজেন (চিফ কোষ) ক্ষরণ করে। অগ্ন্যাশয়: মিশ্র গ্রন্থি। ল্যাঙ্গারহ্যানসের আইলেটস ইনসুলিন (রক্তের শর্করা কমায়) ও গ্লুকাগন (রক্তের শর্করা বাড়ায়) ক্ষরণ করে। শোষণ: প্রধানত ক্ষুদ্রান্ত্রে ঘটে (ভিলি/ল্যাকটিয়ালস এর মাধ্যমে)। সংবহন: রক্তের উপাদান: প্লাজমা (রক্তের 55%)। pH 7.35-7.45 (বাফার সিস্টেম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত)। RBC (লোহিত রক্তকণিকা): নিউক্লিয়াসবিহীন (স্তন্যপায়ী প্রাণীতে), হিমোগ্লোবিন (শ্বাসরঞ্জক) থাকে। আয়ুষ্কাল: 120 দিন। লাল অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয় (জন্মের পর)। WBC (শ্বেত রক্তকণিকা): প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। নিউট্রোফিল ও মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস করে। লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি তৈরি করে। রক্ত জমাট বাঁধার কারণ: টিস্যু থ্রোম্বোপ্লাস্টিন, $Ca^{2+}$, ফাইব্রিনোজেন, প্রোথ্রোম্বিন অপরিহার্য। হেপারিন রক্তনালীর অভ্যন্তরে জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে। হৃদপিণ্ড: সাইনো-অ্যাট্রিয়াল (SA) নোড পেসমেকার হিসেবে কাজ করে। করোনারি ধমনীর ব্লকেজের কারণে এনজাইনা (বুকে ব্যথা) হয়। শ্বসন: অ্যালভিওলি তে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাস বিনিময় ($O_2$/$CO_2$) ঘটে। ডান ফুসফুসে 3টি লোব, বামে 2টি লোব। স্বরযন্ত্রে 9টি তরুণাস্থি থাকে। রেচন: বৃক্কের একক: নেফ্রন। নেফ্রন রেনাল কর্পাসল (বোম্যানের ক্যাপসুল + গ্লোমেরুলাস) এবং রেনাল টিউবুলস (হেনলির লুপ, PCT, DCT) নিয়ে গঠিত। গ্লোমেরুলাস ফিল্টার হিসেবে কাজ করে। চলন/কঙ্কালতন্ত্র: ম্যান্ডিবল হলো খুলির একমাত্র অস্থি যা নড়াচড়া করতে পারে (খুলিতে মোট 29টি অস্থি)। অস্থি পেরিওস্টিয়াম দ্বারা আবৃত, তরুণাস্থি পেরিকন্ড্রিয়াম দ্বারা আবৃত। টেন্ডন (পেশী থেকে অস্থি), লিগামেন্ট (অস্থি থেকে অস্থি)। উচ্চতর গণিত ১. ম্যাট্রিক্স ও নির্ণায়ক ম্যাট্রিক্সের সংজ্ঞা: সারি (অনুভূমিক) ও কলামে (উল্লম্ব) সংখ্যাসমূহের আয়তাকার বা বর্গাকার বিন্যাস। ম্যাট্রিক্সের ক্রম: সারি সংখ্যা $\times$ কলাম সংখ্যা ($m \times n$) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। ২. কণিক কণিকের সংজ্ঞা: এমন বিন্দুর সঞ্চারপথ যার একটি স্থির বিন্দু (উপকেন্দ্র) থেকে এবং একটি স্থির রেখা (নিয়ামক) থেকে দূরত্বের অনুপাত ($e$, উৎকেন্দ্রিকতা) ধ্রুবক। পরাবৃত্ত: $e=1$। উপবৃত্ত: $e অধিবৃত্ত: $e>1$। ৩. সরলরেখা / বৃত্ত / ত্রিকোণমিতিক অনুপাত / জটিল সংখ্যা / বহুপদী সমীকরণ / বিপরীত ত্রিকোণমিতি / অন্তরীকরণ / যোগজীকরণ (এই অধ্যায়গুলো থেকে ভর্তি পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূত্র বা বিশেষ পয়েন্ট পাওয়া যায়নি, শুধুমাত্র অধ্যায়ের উল্লেখ এবং সাধারণ প্রসঙ্গ রয়েছে)। ৪. স্থিতিবিদ্যা ও সমতলে কণার গতি ভরকেন্দ্রের অবস্থান: সুষম দণ্ড: মধ্যবিন্দু। ত্রিভুজাকার পাত: মধ্যমাগুলির ছেদবিন্দু। বৃত্তাকার রিং/ডিস্ক: জ্যামিতিক কেন্দ্র। জড়তার ভ্রামক: $I = MK^2$ ($K$ = চক্রগতির ব্যাসার্ধ)। অভিকর্ষজ ত্বরণ ($g$): পৃথিবীর কেন্দ্রে $g$ এর মান শূন্য। পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে মেরুতে $g$ কমে এবং বিষুবরেখায় $g$ বাড়ে। রসায়ন ১. গুণগত রসায়ন / পরিমাণগত রসায়ন / রাসায়নিক পরিবর্তন বিক্রিয়ার ক্রম: প্রথম ক্রম বিক্রিয়ার হার ধ্রুবক: $K = \frac{1}{t} \ln \frac{a}{a-x}$ ($a$ = প্রাথমিক ঘনত্ব, $x$ = বিয়োজিত ঘনত্ব)। দ্বিতীয় ক্রম বিক্রিয়া: অর্ধায়ু ($t_{1/2}$) প্রাথমিক ঘনত্বের ব্যস্তানুপাতিক ($t_{1/2} \propto 1/a$)। বিক্রিয়ার তাপ: $\Delta H = \Delta E + P\Delta V$। যদি বিক্রিয়ক ও উৎপাদ তরল/কঠিন হয়, $\Delta V \approx 0$, তাই $\Delta H \approx \Delta E$। ২. পরিবেশ রসায়ন বায়ুমণ্ডলীয় উপাদান: $N_2: 78.084\%$, $O_2: 20.946\%$, $Ar: 0.934\%$, $CO_2: 0.039\%।$ নিরাপদ পানির জন্য দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) সীমা: $4-8 \text{ mg/L}$। ৩. পর্যায়বৃত্ত ধর্ম ও রাসায়নিক বন্ধন পর্যায়বৃত্ত প্রবণতা: একটি গ্রুপে উপর থেকে নিচে গেলে আয়নীকরণ শক্তি, ইলেকট্রন আসক্তি এবং তড়িৎ ঋণাত্মকতা কমে। ইলেকট্রন আসক্তি: ক্লোরিন (Cl) এর ইলেকট্রন আসক্তি ফ্লোরিন (F) এর চেয়ে বেশি। অক্সাইড: বোরন অক্সাইড ($B_2O_3$) অম্লীয়। অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড ($Al_2O_3$) উভধর্মী। বন্ধন প্রকারভেদ: আয়নিক (ইলেকট্রোভ্যালেন্ট): ইলেকট্রন স্থানান্তর, শক্তিশালী বন্ধন, পোলার যৌগ, গলিত/দ্রবীভূত অবস্থায় পরিবাহী। সমযোজী: ইলেকট্রন শেয়ারিং, দিকনির্দেশক বন্ধন, নিম্ন গলনাঙ্ক/স্ফুটনাঙ্ক, অন্তরক। হাইড্রোজেন বন্ধন: উচ্চ তড়িৎ ঋণাত্মক পরমাণু (N, O, F) এর সাথে H এর দুর্বল আকর্ষণ; সেলুলোজের দৃঢ়তা ও জলের বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী। ৪. জৈব রসায়ন বিক্রিয়ার প্রকারভেদ: ইলেকট্রোফাইল (EP): ইলেকট্রনপ্রেমী/ইলেকট্রন ঘাটতি (ধনাত্মক চার্জ বা অসম্পূর্ণ অষ্টক) (যেমন: $H^+, NO_2^+, AlCl_3$)। নিউক্লিওফাইল (NP): নিউক্লিয়াসপ্রেমী/ইলেকট্রন সমৃদ্ধ (ঋণাত্মক চার্জ বা নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড়) (যেমন: $OH^-, CN^-, H_2O$)। সংযোজন বিক্রিয়া: মার্কোভনিকফের সূত্র: অপ্রতিসম অ্যালকিনে, H সেই C পরমাণুর সাথে যুক্ত হয় যেখানে H পরমাণুর সংখ্যা বেশি। অ্যান্টি-মার্কোভনিকফের সূত্র: পারক্সাইডের উপস্থিতিতে ঘটে (মার্কোভনিকফের বিপরীত)। গ্রিগনার্ড বিকারক ($RMgX$): ফরমালডিহাইড ($HCHO$) এর সাথে বিক্রিয়া করে $1^\circ$ অ্যালকোহল তৈরি করে। অ্যালডিহাইড এর সাথে বিক্রিয়া করে $2^\circ$ অ্যালকোহল তৈরি করে। কিটোন এর সাথে বিক্রিয়া করে $3^\circ$ অ্যালকোহল তৈরি করে। $CO_2$ এর সাথে বিক্রিয়া করে কার্বক্সিলিক অ্যাসিড তৈরি করে। হ্যালোফর্ম বিক্রিয়া: শুধুমাত্র মিথাইল কার্বনিল গ্রুপ ($R-C(=O)-CH_3$) ধারণকারী যৌগ এই বিক্রিয়া দেয়। অ্যামিন/ফিনল বিক্রিয়া: কার্বিলামিন পরীক্ষা: $1^\circ$ অ্যামিন সনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়; দুর্গন্ধযুক্ত ফিনাইল কার্বিলামিন উৎপন্ন করে। ফিনল: $HNO_3$/$H_2SO_4$ এর সাথে বিক্রিয়া করে 2,4,6-ট্রাইনাইট্রোফিনল (পিক্রিক অ্যাসিড) উৎপন্ন করে, যা বিস্ফোরক ও পোড়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। অ্যানিলিন: $NaNO_2$ এবং $HCl$ এর সাথে $0^\circ \text{C}-5^\circ \text{C}$ তাপমাত্রায় ডায়াজোটাইজেশন ঘটে। ৫. ফলিত রসায়ন ল্যাব নিরাপত্তা: গাঢ় $H_2SO_4$ এর বোতল কাঠের শেলফে রাখা উচিত নয় কারণ এটি একটি শক্তিশালী নিরুদক এবং সেলুলোজকে ক্ষয় করে। ক্রোমিক অ্যাসিড ($K_2Cr_2O_7 + H_2SO_4$) বুরেট পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়। ন্যানো-কণা: আকার $1-100 \text{ nm}$। ন্যানো-গোল্ড অনন্য চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। ফলিত পণ্য: $70\%$ ইথানল স্যানিটাইজার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। DDT এবং ক্লোরিটন জীবাণুনাশক/কীটনাশক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ৬. তড়িৎ রসায়ন তড়িৎ রাসায়নিক কোষ (গ্যালভানিক কোষ): রাসায়নিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। ফ্যারাডের সূত্র: তড়িৎদ্বারে জমা হওয়া পদার্থের ভর প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমাণের সমানুপাতিক। কোষের প্রকারভেদ: প্রাথমিক (রিচার্জ করা যায় না, যেমন: ড্রাই সেল), সেকেন্ডারি (রিচার্জ করা যায়, যেমন: লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি)। পদার্থবিজ্ঞান ১. ভেক্টর (এই অধ্যায় থেকে ভর্তি পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূত্র বা বিশেষ পয়েন্ট পাওয়া যায়নি, শুধুমাত্র সাধারণ পরিভাষা রয়েছে)। ২. নিউটনীয় বলবিদ্যা / কাজ, শক্তি ও ক্ষমতা কৌণিক ভরবেগ (বোরের স্বীকার্য): স্থির কক্ষপথে একটি ইলেকট্রনের কৌণিক ভরবেগ কোয়ান্টায়িত: $L = \frac{nh}{2\pi}$। একক: বলের একক নিউটন (N) বা কিলোগ্রাম-ওজন (kg-wt)। ভরবেগের একক: $kg \cdot m/s$। ৩. মহাকর্ষ অভিকর্ষজ ত্বরণ ($g$): পৃথিবীর কেন্দ্রে $g$ এর মান শূন্য। পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে মেরুতে $g$ কমে এবং বিষুবরেখায় $g$ বাড়ে। ৪. পদার্থের ধর্ম জড়তার ভ্রামক: রিং: $I = MR^2$। ডিস্ক/সিলিন্ডার অক্ষ: $I = \frac{1}{2}MR^2$। নিরেট গোলক/পৃথিবী: $I = \frac{2}{5}MR^2$। ৫. আদর্শ গ্যাস ও গ্যাসের গতিতত্ত্ব আদর্শ গ্যাসের অনুমান: গ্যাসের অণুগুলির আয়তন পাত্রের আয়তনের তুলনায় নগণ্য; গতিশক্তি পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক ($E_K \propto T$)। বাস্তব গ্যাসের আচরণ: উচ্চ তাপমাত্রা এবং নিম্ন চাপে বাস্তব গ্যাস আদর্শ গ্যাসের মতো আচরণ করে। বর্গমূল গড় বর্গবেগ: $C = \sqrt{\frac{3RT}{M}}$। ৬. পর্যায়বৃত্ত গতি / তাপগতিবিদ্যা (এই অধ্যায়গুলো থেকে ভর্তি পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূত্র বা বিশেষ পয়েন্ট পাওয়া যায়নি, শুধুমাত্র সাধারণ পরিভাষা রয়েছে)। ৭. স্থির তড়িৎ / চল তড়িৎ / অর্ধপরিবাহী ও ইলেকট্রনিক্স (এই অধ্যায়গুলো থেকে ভর্তি পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূত্র বা বিশেষ পয়েন্ট পাওয়া যায়নি, শুধুমাত্র সাধারণ পরিভাষা রয়েছে)। ৮. আলোকবিজ্ঞান দর্পণ: আলো প্রতিফলিত করে। লেন্স: দুটি গোলাকার বা একটি গোলাকার ও একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ স্বচ্ছ মাধ্যম। লেন্সের সূত্র: $\frac{1}{u} + \frac{1}{v} = \frac{1}{f}$। ৯. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান / পারমাণবিক ও নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান নিউক্লীয় বিক্রিয়া: ফিশন: ভারী নিউক্লিয়াস বিভাজন (পারমাণবিক বোমা, শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়)। ফিউশন (থার্মোনিউক্লিয়ার বিক্রিয়া): হালকা নিউক্লিয়াস সংযোজন (হাইড্রোজেন বোমা, $10^7 \text{ থেকে } 10^8 \text{ K}$ তাপমাত্রা প্রয়োজন)। তেজস্ক্রিয়তা: অর্ধায়ু ($T_{1/2} = \frac{0.693}{\lambda}$) এবং গড় আয়ু ($\tau = \frac{1}{\lambda}$)।